টানা ম্যাচ খেলার ক্লান্তি। মালদ্বীপে এএফসি কাপের ম্যাচ খেলে কার্যত অনুশীলন ছাড়াই মাঠে নামা। বিকেল সাড়ে চারটের সময়ও প্রচণ্ড গরম আরব-সাগরের সৈকত-শহর গোয়ায়। তিলক ময়দানের মাঠের অবস্থাও খুব সুবিধেজনক নয়। প্রতিপক্ষ কলকাতার টিমগুলোর শক্ত গাঁট সালগাওকার। সেখানে সোনি ছাড়া এমনি ভাঙাচোরা টিম। বলবন্ত আগেই নিজেকে সরিয়ে রেখেছে। তারপর গ্লেনও হয়ত ওঁদের রাস্তাতেই হাটলেন। চমকে ওঠার মতই ব্যাপার বটে! প্রচুর মিস করেও আপাতত সবুজ-মেরুন জার্সি গায়ে মরসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতা ওই গ্লেন কিনা প্রথম একাদশে না থেকে রিজার্ভে! আর শুরু থেকে সুবাস সিং! এহেন পরিস্থিতিতে ম্যাচ জেতা যে সহজ কথা নয়, তা অতি বড় মোহন-সমর্থকও নিশ্চয় বুঝতে পেরেছিল। তবু আশার কারণ ছিল দুটি - ১) প্রতিপক্ষের বেঞ্চে কোন অভিজ্ঞ কোচ না থাকা ২) প্রতিপক্ষের গোলে করণজিতের থাকা।
মোহনবাগান কিক-অফ করে খেলা শুরু করার কয়েক সেকন্ডের মধ্যেই গোল পেয়ে গেলো জেজে মারফত। তারপর শুরু হল প্রত্যাশামত পরিকল্পনাহীন হতশ্রী ফুটবল। সুবাস যেন বৈকালিক ভ্রমণে বেড়িয়েছে, কিনের ভেদশক্তির অভাব। ফলত, ম্যাচে জাঁকিয়ে বস্তে লাগলো সালগাওকার। মাঠে ফুল ফোটাতে লাগলো স্কট, ডাফি, জ্যাকি, গ্যাব্রিয়েলরা। আর ঠক্টহক করে কাঁপতে লাগলো বাগান-রক্ষণ। দেখতে দেখতে আধঘণ্টার মধ্যেই ২-১ করে ফেললো স্কট ও বার্গা। দ্বিতীয় গোল্টার সময় দেব্জিতকে আরো একবার নড়বড়ে দেখালো। রুটিন--মাফিক হলুদ কার্ডও দেখে বস্ল প্রণয়। তবে বিরতির আগে নতুন আর কোনো বিপদ ঘটল না। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যাকফুটে থাকা মোহনবাগান যেন ম্যাচ ড্র রাখার তাগিদটাও দেখাতে ভুলতে বসেছিল। পুরো টিমটার বডি-ল্যাঙ্গুয়েজ বদলালো কিনের জায়গায় প্রবীর নামতে। এবারের বাগানের অন্যতম সেরা রিক্রুট এই সোদপুর-তনয়। সচল হল লুসিয়ানো, প্রণয়, কাতসুমি, জেজে। ধার বাড়লো আক্রমণের। ৭৬ মিনিটে কাতসুমির একটি দারুণ সোলো-রানের পর গোলমুখী শট সুবাসের পরিবর্তে নামা অভিষেক দাসের পায়ে লেগে ঢুকে গেলো লগাওকার গোলে। পাঁচ মিনিটের মধ্যে লুসিয়ানোর লম্বা ক্রস বক্সের ভিতর, জেজের দুর্দান্ত চেস্ট-ট্র্যাপ এবং তারপরে তিঙ্কাঠি লক্ষ্য করে গ্রাউন্ডার আর করণজিতের 'উদার' হস্তপ্রসারন মোহনবাগাআঙ্কে জয়সূচক গোলটি এনে দিল। দুটি গোল করে আত্মবিস্বাস ফিরল জেজের। সোনি-গ্লেন ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ জিতে যুদ্ধ জয়ের মেজাজ মোহনসারথী সঞ্জয় সেনের।
আই-লিগের অন্য দুই বড় টিম যখন পাহাড়ে গিয়ে বিপর্যস্ত, তখন মোহনবাগানের এই স্রোতের বিপক্ষে গিয়ে সাগর-জয় নিঃসন্দেহে তারিফযোগ্য। ৩-২ ফলে অ্যাওয়ে ম্যাচ জিতে এখন বলাই জায় অ্যাডভান্টেজ মোহনবাগান। নতুন ফরম্যাটের এই ফেড কাপে বাইরের মাঠে তিন গোল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর সব টিমই চায় জয় দিয়ে যে কোনো টুর্নামেন্টের অভিজান শুরু করতে। তাই আগামী ৫ই মে হোম ন্যাচে এই সালগাওকারের বিরুদ্ধেই তারা অনেক চাপমুক্ত হয়ে নামতে পারবে। তবে ক্লাবের আসল সমস্যাগুলো এর মধ্যে যত শীঘ্র মিটে যায়, ততই মঙ্গল।
...
শুভাগত চন্দ্র
মোহনবাগান কিক-অফ করে খেলা শুরু করার কয়েক সেকন্ডের মধ্যেই গোল পেয়ে গেলো জেজে মারফত। তারপর শুরু হল প্রত্যাশামত পরিকল্পনাহীন হতশ্রী ফুটবল। সুবাস যেন বৈকালিক ভ্রমণে বেড়িয়েছে, কিনের ভেদশক্তির অভাব। ফলত, ম্যাচে জাঁকিয়ে বস্তে লাগলো সালগাওকার। মাঠে ফুল ফোটাতে লাগলো স্কট, ডাফি, জ্যাকি, গ্যাব্রিয়েলরা। আর ঠক্টহক করে কাঁপতে লাগলো বাগান-রক্ষণ। দেখতে দেখতে আধঘণ্টার মধ্যেই ২-১ করে ফেললো স্কট ও বার্গা। দ্বিতীয় গোল্টার সময় দেব্জিতকে আরো একবার নড়বড়ে দেখালো। রুটিন--মাফিক হলুদ কার্ডও দেখে বস্ল প্রণয়। তবে বিরতির আগে নতুন আর কোনো বিপদ ঘটল না। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যাকফুটে থাকা মোহনবাগান যেন ম্যাচ ড্র রাখার তাগিদটাও দেখাতে ভুলতে বসেছিল। পুরো টিমটার বডি-ল্যাঙ্গুয়েজ বদলালো কিনের জায়গায় প্রবীর নামতে। এবারের বাগানের অন্যতম সেরা রিক্রুট এই সোদপুর-তনয়। সচল হল লুসিয়ানো, প্রণয়, কাতসুমি, জেজে। ধার বাড়লো আক্রমণের। ৭৬ মিনিটে কাতসুমির একটি দারুণ সোলো-রানের পর গোলমুখী শট সুবাসের পরিবর্তে নামা অভিষেক দাসের পায়ে লেগে ঢুকে গেলো লগাওকার গোলে। পাঁচ মিনিটের মধ্যে লুসিয়ানোর লম্বা ক্রস বক্সের ভিতর, জেজের দুর্দান্ত চেস্ট-ট্র্যাপ এবং তারপরে তিঙ্কাঠি লক্ষ্য করে গ্রাউন্ডার আর করণজিতের 'উদার' হস্তপ্রসারন মোহনবাগাআঙ্কে জয়সূচক গোলটি এনে দিল। দুটি গোল করে আত্মবিস্বাস ফিরল জেজের। সোনি-গ্লেন ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ জিতে যুদ্ধ জয়ের মেজাজ মোহনসারথী সঞ্জয় সেনের।
আই-লিগের অন্য দুই বড় টিম যখন পাহাড়ে গিয়ে বিপর্যস্ত, তখন মোহনবাগানের এই স্রোতের বিপক্ষে গিয়ে সাগর-জয় নিঃসন্দেহে তারিফযোগ্য। ৩-২ ফলে অ্যাওয়ে ম্যাচ জিতে এখন বলাই জায় অ্যাডভান্টেজ মোহনবাগান। নতুন ফরম্যাটের এই ফেড কাপে বাইরের মাঠে তিন গোল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর সব টিমই চায় জয় দিয়ে যে কোনো টুর্নামেন্টের অভিজান শুরু করতে। তাই আগামী ৫ই মে হোম ন্যাচে এই সালগাওকারের বিরুদ্ধেই তারা অনেক চাপমুক্ত হয়ে নামতে পারবে। তবে ক্লাবের আসল সমস্যাগুলো এর মধ্যে যত শীঘ্র মিটে যায়, ততই মঙ্গল।
...
শুভাগত চন্দ্র
No comments:
Post a Comment