Saturday, 23 April 2016

Mohun Bagan signs off in grand style (শেষ পাতে জবরদস্ত মিষ্টিমুখ মোহনবাগানের)

পাঁচ ম্যাচ পর জয়ের সারণীতে ফিরল মোহনবাগান। গোল দিল পাঁচ। হতে পারত আরো পাঁচ। কোন টিমের বিরুদ্ধে? না, এআইএফএফের ‘ভাল ছেলে’ বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে। কোন মাঠে? না, এআইএফএফের বদান্যতায় হোম-ভেন্যু হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া শত্রু-শিবিরের শক্ত ঘাঁটি শিলিগুড়ির কাঞ্ছনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে। নিঃসন্দেহে বড় জয়। অনেক অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে জবাব, অনেক আফসোসকে স্তিমিত করার সান্ত্বনা, চলতি এএফসি কাপ ও আসন্ন ফেডারেশন কাপে ভালো ফল করার বাড়তি অক্সিজেন। আর সর্বোপরি, শেষ পাতে মিষ্টিমুখ সারার মত এবারের আই-লিগের মধুর সমাপ্তি সম্পন্ন করা। হয়ত অনেককিছুই পাওয়া গেল আজকের এই জয় থেকে।
প্রতিপক্ষ লুরু ব্রিগেড আজ তাদের দ্বিতীয় সারির দল নামিয়েছিল। এক ম্যাচ আগেই চাম্পিয়ন হয়ে যাওয়ার সুবাদে হয়ত লুরুদের সাহেব কোচ সুনীল, লিংডো, কিম, জনসনদের খেলাননি। তাতে অবশ্য সবুজ-মেরুনের এই পরিষ্কার ৫-০ জয়কে কোনভাবে খাটো করা যায় না। রেকর্ড এটাই বলবে যে ২০১৫-১৬ আই-লিগের ফার্স্ট বয়কে পঞ্চবাণে বিদ্ধ করেছে সেকন্ড বয়। গোলযজ্ঞ মোহনবাগান শুরুর গ্লেনের মাধ্যমে খেলা শুরুর আট মিনিটেই। তারপর লেনি, লুসিয়ানো, আজহার একে একে সবাই সেই যজ্ঞে যোগ দেন। যার ফলস্বরূপ, আঠাশ মিনিটের মধ্যেই মোহনবাগান এগিয়ে যায় ৪-০ গোলে। তখন মাঠ জুড়ে যেন শুধুই মোহনবাগান - একেবারে ওয়ান-ওয়ে ট্রাফিক। সোনি-কাটসুমিরা দুটো উইং দিয়ে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিলেন, কখনো নিজেরাও গোল করার মত পরিস্থিতি তৈরি করে ফেলছিলেন। পিছন থেকে প্রবীর ঘন ঘন উঠে এসে আক্রমণে ঝাঁঝ বাড়ালেন। মনে হচ্ছিল আজ কাঞ্চনজঙ্ঘাতে লুরুদের বুঝি চরম লজ্জা অপেক্ষা করছে। কিন্তু আধঘণ্টা পর কিছুটা শাটার নামিয়ে ফেললেন মোহনসারথী সঞ্জয় সেন। বোধহয়, ম্যাচ নিজেদের পকেটে চলে এসছে বুঝেই।
দ্বিতীয়ার্ধে আরো সাবধানী মোহনবাগান। ৫১ মিনিটে কিগান পেরেরা লাল কার্ড দেখায় লুরুরা ১০ জন হয়ে যায়। তাও বিপক্ষের টুঁটি চিপে ধরেনি সোনিরা। এরি মধ্যে ৬৬ মিনিটে গ্লেন নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পক্ষে পঞ্চম গোলটি করে ফেলেন। হ্যাট্রিক করার সহজ সুযোগ বেশ করার গ্লেন হাতছাড়া করেন। পরিবর্তে নামা জেজের নামও স্কোরশিটে উঠতে পারত। একটিক্ষেত্রে রেফারি-লাইন্সম্যানরা অন্তরায় হয়ে দাঁড়ালেন। সারা ম্যাচে লুরুদের শেষ দশ মিনিট দেখা গেল বাগান বক্সে ঘুরঘুর করতে। তবে মোহনবাগান গোলরক্ষক অর্ণবকে সেভাবে কখনোই কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়নি।
সবশেষে একটা ছোট্ট তথ্য দিয়ে রাখি। এবারের আই-লিগে সব দলের মধ্যে মোহনবাগান গোল দিয়েছে সবচেয়ে বেশি (৩২)। আর গোল খেয়েছে সবচেয়ে কম (১৬)। ১৬ ম্যাচে গোলপার্থক্য ১৬। তাও এবার আই-লিগ রানার্স হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে গঙ্গাপারের ক্লাবকে।

আর আমাদের ব্লগার হিসেবে একটা দারুণ গরবের কারণ হল এই ব্লগ চালু করার পরই আজ ছিল আমাদের মোহনবাগানের প্রথম ম্যাচ। আর সেই ম্যাচেই এলো এই অসাধারণ জয়। আশা করি, আগামী দিনেও এই জয়ের ধারা অব্যাহত থাকবে।

...

শুভাগত চন্দ্র

No comments:

Post a Comment